Saturday, November 26, 2016

‘আল বাইয়্যিনাত’ সম্পর্কে মিথ্যাচারিতা


আশাদ্দুদ দরজার জাহিল কাযযাবুদ্দীন তার ‘ভ্রান্ত মতবাদে’ লিখেছে, “তিনি স্বপ্নে দেখেছেন ফুরফুরার হযরত মাওলানা আবূ বকর সিদ্দীকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট খলীফা মাওলানা রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি  তিনি এক মাহফিলে ওয়াজ করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ দেখ আমি আগে মাসিক আল বাইয়্যিনাত পড়তাম না। আমাকে সর্বপ্রথম এটা পড়তে বললেন হাদীছের বিখ্যাত ইমাম আল্লামা দাইলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তারপর বললেন খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অতঃপর আমি এক বন্ধুসহ গেলাম মদীনায় প্রিয় নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারতে, নবীজি তিনিও আমাকে বললেন ‘আল বাইয়্যিনাত’ পড়তে। এরপর  থেকে আমি ‘আল বাইয়্যিনাত’ পড়ে থাকি।”
উক্ত স্বপ্ন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কাযযাবুদ্দীন লিখেছে, “মৃত্যুর পর আম্বিয়ায়ে কেরাম কবরে নামায পড়েন বলে হাদীছ শরীফ-এ প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া কবরে কোন ব্যক্তি পত্র-পত্রিকা তো দূরের কথা কুরআন শরীফ-কিতাব পাঠ করে এমন কোন প্রমাণও কুরআন শরীফ-হাদীছ শরীফ-এর কোথাও নেই।”

‘বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফ’ সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা


আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হেমায়েত উদ্দীন ওরফে কাযযাবুদ্দীন তার কলঙ্কিত রেসালা “ভ্রান্ত মতবাদে” লিখেছে ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত সম্পর্কে তিনি এত বাড়াবাড়ি করেছেন যে, আল বাইয়্যিনাত জুলাই ’৯৯ সংখ্যায় ১৩৪ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, আল্লামা রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মছনবী শরীফকে যেমন ফার্সী ভাষায় কুরআন শরীফ বলা হয়, তদ্রুপ আল বাইয়্যিনাতও যেন ‘বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফ।”
উক্ত বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কাযযাবুদ্দীন লিখেছে, “এক দিকে তিনি আল বাইয়্যিনাত পত্রিকাকে কুরআন শরীফ বলে আখ্যায়িত করেছেন, আবার আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার বিরোধিতা করলে ঈমান হারা হয়ে যাওয়ার ধারণা প্রদান করেছেন। এর অর্থ হলো তিনি এই পত্রিকাকে প্রকৃত অর্থেই কুরআনের সমতুল্য আখ্যায়িত করতে চান।”

বুযূর্গদের প্রশংসা করা সম্পর্কে মিথ্যাচারিতা

কাযযাবুদ্দীন লিখেছে, “………. তিনি বিভিন্ন বুযূর্গ সম্পর্কে অতি উচ্চ মাত্রায় বাড়াবাড়ি করে কিছু প্রশংসা করেছেন। ….. যেমন তিনি বলেন,
১.    কেউ যদি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত মাকতুবাত শরীফ পড়ে (পড়াকালীন সময়ে) যদিও সে নবী নয়, তবুও নবীদের দফতরে তার নাম থাকে। ………।”
২.    রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি নিজেকে ‘গাউছুল আ’যম দাবি করেন। আর উনার পত্রিকায় গাউছুল আ’যম বড় পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে, গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আওলিয়া মুহিউদ্দীন বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “কোন চাঁদ উদিত হয় না কোন সূর্য অস্ত যায় না আমার অনুমতি ব্যতীত” … অতঃপর একটু সামনে গিয়ে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিও সেরূপ ক্ষমতা রাখেন সেদিকে ইঙ্গিত করে পত্রিকাটিতে লিখা হয়েছে, “উল্লেখ্য এ ধরনের আখাছ্ছুল খাছ মর্যাদা-মর্তবার ওলী আল্লাহর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সমাসীন …… রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।” (আল বাইয়্যিনাত ৭১তম সংখ্যা ১৩৯ পৃষ্ঠা)

জমহুরে উম্মতের খিলাফ ফতওয়া প্রদান সম্পর্কে

কাযযাবুদ্দীন সর্বশেষে তার জিহালতীর সবটুকু উদ্গীরণ করে দিয়ে তার কলঙ্কিত ও গুমরাহীমূলক রেসালা “ভ্রান্ত মতবাদে” লিখেছে, “উল্লেখ্য রাজারবাগ শরীফ এর মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুজতাহিদ হিসেবে জমহুরে উম্মতের খিলাফ অনেক মাসায়েলও উদ্ভাবন করেছেন। যেমন (১) চার কল্লী টুপি পরিধান করা খাছ সুন্নত (২) মুসলমানদের উপর চরম ধরনের বিপদাপদ আসলে ফজরের নামাযে কুনূতে নাযেলা পাঠ করা জায়িয নয়, এরূপ কুনূতে নাযিল পাঠ করা হলে নামায ফাসেদ হয়ে যায় (৩) নামের শুরুতে বহু খেতাব ব্যবহার করা সুন্নত। (৪) ১২ রবিউল আউয়াল মুসলমানদের জন্য বড় ঈদ ইত্যাদি।”
মিথ্যাচারিতার খণ্ডমূনলক জবাব
আশাদ্দুদ দরজার জাহিল কাযযাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রথমেই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এজন্য যে, কাযযাবুদ্দীন অনিচ্ছাসত্ত্বে হলেও রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে ‘মুজতাহিদ’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। যদিও তার এ স্বীকার করে নেয়া বা অস্বীকার করাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না। আরো শুকরিয়া জানাই এজন্য যে, কাযযাবুদ্দীন নিজেই প্রমাণ করলো যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক ইজতিহাদকৃত উল্লিখিত মাসয়ালা চারটি সঠিক। কারণ, সে উক্ত মাসয়ালা ৪টি উল্লেখ করেছে কিন্তু তা দলীল দ্বারা খণ্ডন করে জমহুর উম্মতের খিলাফ প্রমাণ করার দুঃসাহস তার হয়নি। সে ভাল করেই জানে যে, উল্লিখিত মাসয়ালাগুলো খণ্ডন করার মত যোগ্যতা কাযযাবুদ্দীন তো দূরের কথা, পৃথিবীর কোন আলিমেরই নেই। তাই সে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র “জমহুরে উম্মতের খিলাফ” বলেই ক্ষান্ত হয়েছে।

মু’তাযিলা আক্বীদা সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা

মহা কাযযাব সুলাইমান আলী ওরফে মুসাইলাম তার বিভ্রান্তিকর রেসালা “আদ-দ্বীনে” আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছে যে, “… যারা মু’মিন থেকে কোন গুনাহের কাজ সংঘটিত হলেই দ্বীনের থেকে খারিজ বা কাফের হয়ে যায় মনে করে …. তারাই গুমরাহ ফেরক্বা।
… অতএব, মীলাদ ক্বিয়াম অস্বীকার করা, লংমার্চে নেতৃত্ব দেয়া, হরতাল করা, ছবি তোলা, মহিলা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করা ইত্যাদি জনাব … সাহেবের দৃষ্টিতে হারাম বা গুনাহে কবীরাহ। আর এ গুনাহে লিপ্ত হওয়াকে কুফরী বা দ্বীন থেকে খারিজ হওয়ার ফতোয়া প্রদান করাই প্রমাণ করে যে, তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত নন বরং তিনি মু’তাযিলা বা খারিজী ফিরকার অনুসারী তথা বাতেল ফেরক্বার অন্তর্ভুক্ত।” নাঊযুবিল্লাহ!

বাবরী মসজিদ, ফতওয়া নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা


মহা কাযযাব তার ভ্রান্ত রেসালা ‘আদ দ্বীনে’ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার প্রতি আরেকটি তোহমত দিয়েছে যে, … বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা, ইহুদী, মহিলা কর্তৃক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ব্যঙ্গ পোস্টারিং করা, ইরাক ও আফগান যবর দখল করা ও গণহত্যা চালানো এবং আদালত কর্তৃক সবধরনের ফতওয়া নিষিদ্ধ করণের কোন প্রতিবাদ নাকি রাজারবাগ শরীফ-এর পক্ষ থেকে করা হয় নাই।” নাঊযুবিল্লাহ
মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব
মহা কাযযাব মুসাইলামের উপরোক্ত তোহমতের জবাবে বলতে হয় যে, ক্বওমী বা খারিজী বলে একটি ধারা এদেশে বিরাজমান। হালে এ ধারাটির তবিয়ত দেখে প্রতিভাত হয় যে, ঐ প্রবাদ এদের জন্য যথাযথভাবে প্রযোজ্য-‘আলিমরা মাটির নিচে গেছে আর মুর্খরা সব জায়গা দখল করে নিয়েছে।’

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব ২(৪)


বাতিলপন্থিরা এ পর্যন্ত বহু মিথ্যা রটনা বা অপপ্রচারই করেছে। তবে তাদের প্রতিটি মিথ্যা অপপ্রচারেরই দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়েছে বা রয়েছে। উক্ত জবাবের কোন খ-নমূলক জবাব না দিতে পেরে তারা বাধ্য হয়েছে “মিথ্যার আশ্রয় নিতে”।
ইদানিংকালে ঢাকার  তথাকথিত মুফতী বোর্ড ও মারকাজুল ইসলামী-এর তথাকথিত চেয়ারম্যান ও মুফতী … শামছুল হক “বেশরা…দের গোমর ফাঁক” নামে একটি রেসালা প্রকাশ করেছে এবং মুনাফিক গোষ্ঠী ও বাতিলপন্থী ওহাবী, খারিজী, জামাতিরা কয়েকটি লিফলেট প্রচার করেছে। সেগুলোতে যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কাযযাব “শামছু ও মুনাফিক গোষ্ঠীরা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিরোধিতা করতে গিয়ে যে সকল মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছে, তা তাদেরকে আশাদ্দুদ দরজার জাহিল, যুগের আবূ জাহিল, গোমরাহ ও দাজ্জালে কাযযাব হিসেবেই সাব্যস্ত করেছে।