Sunday, August 27, 2017

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৭ (৬). সুন্নতী মাসজিদ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে দুই মহান ওলীআল্লাহ উনাদের প্রতি মহান নির্দেশ মুবারক:


পাঠক, আলোচনার সুবিধার্থে আমাদের জানা প্রয়োজন- রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম, যিনি ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত পিতা, মহান আল্লাহ পাক উনার মহান ওলী, আওলাদে রসূল, বিশিষ্ট বুযুর্গ, কুতুবুজ্জামান হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনাকে সম্বোধন করা হয় ‘হযরত দাদা হুযূর কিবলা আলাইহিস সালাম’ হিসেবে। আর উনার সম্মানিত শায়েখ শাহ ছুফী হযরত মাওলানা মুহম্মদ ওয়াজিউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি অবস্থান করতেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। উনি যাত্রাবাড়ীর পীর ছাহেব ক্বিবলা (শায়েখ ক্বিবলা) হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। সম্মানিত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন যাত্রাবাড়ী থেকে রাজারবাগ শরীফ এসে দেখা করেন ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ, আওলাদে রসূল, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা এবং বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাথে।

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৬ (৫). পবিত্র সুন্নতী মসজিদ ও মাদরাসা উনাদের মূল বুনিয়াদী অবকাঠামো ও তার পূর্ণ বিবরণী:


আলহামদুলিল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মুবারক নির্দেশ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দিক-নির্দেশনায় রাজারবাগ শরীফে সুন্নতী জামে মসজিদ উনার নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অক্লান্ত ও অবর্ণনীয় ত্যাগ ও পরিশ্রমে সর্বপ্রকার সুন্নতী নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়। যথাক্রমে যশোর ও ফরিদপুর এবং ঢাকা রূপগঞ্জের কালীগঞ্জ থেকে খেজুর গাছ, খেজুরের পাতা, কা- ও ছাল। আমাদের দেশের অধিকাংশ খেজুর গাছই রস সংগৃহীত কাটা গাছ। আর ওই কাটা গাছ দিয়ে স্তম্ভ, কাঠ, রুয়া ইত্যাদি তৈরি করা সম্ভব নয়। পূর্ণাঙ্গ ভালো গাছের দরকার। তাই অনেক খোঁজাখুঁজি ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থায় দূর-দুরান্ত থেকে ট্রাকযোগে ও নৌপথে সমস্ত সুন্নতী সামগ্রী সংগ্রহ করে পবিত্র রাজারবাগ শরীফ-এ আনা হয়। চাল বাঁধাইয়ের জন্যে বেঁত আনতে হয় সিলেট থেকে। দেয়াল নির্মাণের জন্য লালমাটি সংগ্রহ করা হয় ঢাকা ক্বদমতলা রাজারবাগ থেকে। পাথর আনা হয় নূরানীগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে।

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৫ (৪). পবিত্র সুন্নতী মসজিদ উনার কথা-(খ):


এই পবিত্র সুন্নতী মসজিদ উনার মিল রয়েছে সেই পবিত্র মদীনা শরীফে হিজরত করে এসে প্রতিষ্ঠিত ‘মসজিদে নববী শরীফ’ উনার সাথে। সে আলোচনা আজ শোনা যাক।
ঢাকার কেন্দ্রস্থল রাজারবাগ এলাকায় মহান আল্লাহ পাক উনার মহান ওলী, আওলাদে রসূল, বিশিষ্ট বুযুর্গ, কুতুবুজ্জামান হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার আবাস; যিনি ১৫ শতকের মহাসম্মানিত মুজাদ্দিদ, ইমামুল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা।
আওলাদে রসূল, বিশিষ্ট বুযুর্গ, কুতুবুজ্জামান হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার পুত্র সন্তানগণের মধ্যে যিনি তৃতীয়, তিনি সবার চেয়ে একেবারেই ব্যতিক্রম। উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক যখন কম, তখন থেকেই লক্ষ্য করা গেছে যে- তিনি পবিত্র সুন্নত পালনে অবিচল। উনার জীবন মুবারকের বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎ হয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে। এছাড়াও অনেক হযরত ছাহাবা আজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, সম্মানিত মাযহাব উনাদের ইমাম, সম্মানিত তরীক্বা উনাদের ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা দেখা করে উনাকে বভিন্ন বিষয়ে সুসংবাদ প্রদান করতেন।

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৪ এক সুন্নতী মসজিদ উনার কথা:



রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি তুলে ধরতে হলে পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদ উনার কথা বলতেই হবে। এছাড়া সমস্ত বর্ণনা অপূর্ণ রয়ে যাবে। মসজিদ মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে- মুসলমান মাত্রই কোনো না কোনো মসজিদ তৈরিতে সাহায্য করেন বা দান করে থাকেন। শহরে থাকলে এলাকার মসজিদে, গ্রামে থাকলে গ্রামের মসজিদে আবার অনেকে শহরে থেকেও নিজের গ্রামের মসজিদের জন্য দান করে থাকেন। পাশ্চাত্যে যেমন- আমেরিকা, ব্রিটেন, ইটালী, ফ্রান্স এসব দেশে যখন কোনো মুসলিম দেশ যেমন- বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা কোনো আফ্রিকার মুসলিম দেশ থেকে মুসলমানগণ যান; তারা সেদেশে গিয়ে অনেক মসজিদ-মাদরাসা তৈরি করেছেন তার বহু নজির রয়েছে। অনেক বেনামাযী লোকও কেবল মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নামাযী হয়ে গেছেন। এর কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত। অর্থাৎ খালিছ নিয়তে কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরের খিদমতের আঞ্জাম দেয়, তাহলে এক সময় তার আল্লাহওয়ালা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে যায়।

Friday, July 28, 2017

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৩

(৩). ঢাকাস্থ ‘রাজারবাগ শরীফ’ থেকে কার্যক্রম শুরু:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ববর্তী সময়ে যে সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এসেছিলেন, উনারা একটি নির্দিষ্ট কওমের হিদায়েতের জন্য এসেছিলেন। একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসেছেন পুরো কায়িনাতের জন্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘খাতামুন নাবিইয়ীন’ অর্থাৎ উনার পর আর কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আসবেন না; কিন্তু উনার উম্মতের মধ্য থেকে আসবেন সম্মানিত “মুজাদ্দিদ”। মুজাদ্দিদগণ কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করলেও উনাদের হিদায়েতের কার্যপরিধি থাকে পৃথিবীব্যাপী।

Thursday, July 27, 2017

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-২: মুবারক পূর্বপূরুষ উনাদের পরিচিতি:


আমাদের এ অঞ্চলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আসেননি। এসেছেন হযরত ওরাছাতুল আম্বিয়াগণ অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণ উনারা। উনারাই এ অঞ্চল যথা: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার করেছেন, পথহারা মানুষদেরকে ঈমান দান করেছেন। এমনি এক মহান ওলীআল্লাহ ছিলেন খাজা গরীবে নাওয়াজ হযরত মুঈনুদ্দীন চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি; যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাইবিয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ভাতবর্ষের আজমীর শরীফে হেদায়েতের বার্তা নিয়ে আগমন করেন। তিনি সমরখন্দ, লাহোর, মুলতান হয়ে দিল্লী পৌঁছেন। পরবর্তীতে দিল্লী থেকে আজমীর শরীফ পৌঁছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার শুরু করেন।

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-১

(১)রাজারবাগ শরীফ উনার সিলসিলা:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন- “আমার উম্মত আমার শিক্ষাকে ৭৩টি দলে বিভক্ত করবে, তবে তার মাঝে একটি দল হবে হক।” সেই সঠিক আক্বীদাবিশিষ্ট দলকে পরবর্তীতে বলা হয়েছে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো অনেকেই নিজেদের সেই দলের সদস্য দাবি করছে কিন্তু তাদের আক্বঈদ, আমল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত থেকে ভিন্ন, যেমন ওহাবী ও সলাফী সম্প্রদায়। চার মাযহাবের অনুসারীগণই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। তারপরেও একই মাযহাবের অনুসারীগণের মধ্যে আবার ইলমে তাসাউফ, ইলমে আখলাক বা ইলমে বাতেন হাছিলের জন্য বিভিন্ন ধারা, তরীক্বা বা সিলসিলা পাওয়া যায়। ‘সিলসিলা’ একটি আরবী শব্দ; যার অর্থ- চেইন বা সংযোগের ধারাবাহিকতা। এটা আধ্যাত্মিক বংশতালিকাও বটে, যেখানে একজন কামিল মুর্শিদ বা শায়েখ উনার উত্তরপুরুষদের মধ্যে খিলাফতের ভার ন্যাস্ত করে যান। ‘সিলসিলা’ হচ্ছে কামিল মুর্শিদ বা শায়েখগণের একটি পর্যায়ক্রমিক ধারা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা গারীব নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা আহলে সুন্নাত জামাতের আক্বীদাভুক্ত হবার পরেও মাযহাবের দিক থেকে এবং তাসাউফ শিক্ষার সিলসিলার দিক থেকে ভিন্ন। আর সে কারণে অনেক সময় তাসাউফ শিক্ষার পর্যায়ক্রমিক ধারাই ‘সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর হয়ে থাকে।