Tuesday, December 15, 2015

‘পীর’ শব্দ নিয়ে কিছু কথা

পীর শব্দের অর্থ কি?
পীর শব্দটি ফার্সি। শব্দগতভাবে এর অর্থ হল ‘জ্ঞানবৃদ্ধ’। পারিভাষিক অর্থে যিনি আল্লাহ পাককে পাইয়ে দেবার ক্ষেত্রে বা আল্লাহ পাক এর সাথে রূহানী সংযোগ করে দেয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, উনাকেই পীর সাহেব বলা হয়। কুরআন শরীফ ও হাদিছ শরীফে যাদের আউলিয়া, মুর্শিদ, শায়খ ,মুহসিনিন, ছ্বদেকীন , উলিল আমর বলা হয়েছে, ফার্সিতে তাদের পীর সাহেব বলা হয়।
ফার্সি ভাষার শব্দ 'পীর' কেন বাংলায় ব্যবহার হচ্ছে?
পাক ভারতে ইসলামের প্রচার-প্রসার তথা স্থানীয় বিধর্মীদের মুসলমান হওয়ার ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষাভাষি আউলিয়ায়ে কিরামদের ভূমিকাই মুখ্য। যে কারণে এ স্থানে মুসলমানদের বন্দিগী জীবনে ফার্সির অনেক পরিভাষাই ব্যবহৃত হয়। আরবী সালাত, সাওম এর পরিবর্তে যেরূপ ফার্সি নামায, রোযা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আল্লাহকে খোদা ,
জান্নাতকে বেহেশত ,
মালাইকাদের ফেরেশ্তা ইত্যাদি ফার্সি শব্দ আমরা ব্যবহার করে থাকি।
বাংলায় যেমন একই শব্দের একাধিক সমার্থক শব্দ থাকে তেমনি আরবী ,ফারসীতেও থাকে।
যারা পীর শব্দ নিয়ে উলটা পালটা বলে থাকে যে এই শব্দ কোরআন হাদীস এ নাই তাঁরা উপরোক্ত শব্দ কি কোরআন হাদিসে পাবে ?
যদি না পায় তাহলে ব্যবহার করে কেন ?
তাই পীর শব্দের সাথে এলার্জি থাকার আর কোন কারণ দেখছি না।

রাজারবাগে এসে মানুষ যা হাসিল করতে পারে ....

আল্লাহ সুবহানু তায়ালা এবং রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বত অর্জন এবং তাঁদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন কত মুল্যবান ও সহজ সেটা আমি রাজারবাগ শরীফে গিয়ে বুঝতে পেরেছি। দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে পরিচয় লাভ কিংবা একটুখানি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস চেষ্টা-তদবীর করতে থাকে। এটা করতে পারলে টাকা-পয়সা, ক্ষমতা ইত্যাদি হাসিল করা সহজ হবে। এতে কেউ সফলকাম হতে পারে, নাও হতে পারে। সফলকাম হলেও মৃত্যুকালে সমস্ত অর্জন এই দুনিয়াতেই রেখে যেতে হয়। আর আল্লাহ পাক এবং তাঁর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যদি কেউ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে তবে সে উভয় কালেই কামীয়াবী অর্জন করে থাকে। আর রাজারবাগ শরীফে আসতে পারলে তাঁদের মহব্বত হাসিল করা কিংবা সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন কিছু নয়। হাদীস পাকে বর্ণিত আছে, হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তি যদি মুহব্বতের সাথে দরুদ শরীফ পাঠ করেন, হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা শুনতে পান, তিনি পাঠকারীকে চিনেও রাখেন। অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দরুদ শরীফ পাঠকারী ব্যক্তির একটা সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। আল্লাহর সাথেও পাঠকারীর একটা মুহব্বত হাসীল হয়ে যায়। একটা লোক রাজারবাগ শরীফে গিয়ে বাইয়াত হয়ে নিয়মিত দরুদ শরীফ পাঠ করলে অল্প দিনের মধ্যেই সেটা সে বুঝতে পারে। রাজারবাগ শরীফে গিয়ে দেখেছি সেখানে সেই বিষয়টাই সবাইকে শিখিয়ে দেয়া হয়। পরকালে নাজাত পাওয়ার কত সহজ ব্যবস্থা ! সুবহানাল্লাহ।

রাজারবাগ দরবারে যে শিক্ষা দেওয়া হয়

হাদীস শরীফে বলা হয়েছে-
ইলম বা জ্ঞান হচ্ছে দুই প্রকার-
(১) কলবী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ। আর এটাই মূলতঃ উপকারী ইলম।
(২) যবানী ইলাম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ্, যা আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল।
(সূত্র:দারিমী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, দাইলামী, বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব)
হাদীস শরীফ বর্ণিত কলবী ইলম বা ইলমে তাসাউফ অর্জন যে একটি মূল্যবান বিষয় তা আমি বুঝতে সক্ষম হই রাজারবাগ দরবার শরীফে এসে।
উল্লেখ্যা ইলমে তাসাউফ হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যা দ্বারা স্বয়ং আল্লাহ তালায়া ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা যায়।
উদাহরণস্বরূপ- দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে পরিচয় লাভ কিংবা একটুখানি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস চেষ্টা-তদবীর করতে থাকে। এটা করতে পারলে টাকা-পয়সা, ক্ষমতা ইত্যাদি অর্জন করা সহজ হবে বলে। এতে কেউ সফলকাম হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। সফলকাম হলেও মৃত্যুকালে সমস্ত অর্জন এই দুনিয়াতেই রেখে যেতে হয়। অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা এবং উনার রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যদি কেউ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে তবে সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই সাফল্য অর্জন করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ।
সত্যি বলতে- রাজারবাগ দরবার শরীফে আসতে পারলে এই ইলমে তাসাউফ অর্জন খুব সহজেই হয়ে যায়। দরবার শরীফে এসে বাইয়াত হয়ে নিয়মিত প্রতিদিন দরুদ শরীফ পাঠ শুরু করার সাথে সাথেই সেটা বুঝতে পারলাম। অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, রাজারবাগ দরবার শরীফ সেই বিষয়টাই সবাইকে শিখিয়ে দেয় । কত সহজ ব্যবস্থা।

রাজারবাগ দরবারে মানুষ যাতায়াতের কারণ

আমার দেখা রাজারবাগ শরীফে -
কি হয় ?
-সেখানে আল্লাহ পাকের ইবাদত বন্দেগী করা হয়, অন্তর থেকে ইবাদত বন্দেগী করার শিক্ষা দেওয়া হয়।
কে শিক্ষা দেন?
যিনি খাটি ওলীআল্লাহ, তিনি -
সেখানে আল্লাহ পাক ও হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুহব্বত, মা’রিফত শিক্ষা দেন; আদব শিক্ষা দেন।
শরীয়তের আদেশ নির্দেশ শিক্ষা দেন।
পরিপুর্ন ইসলাম পালন করার শিক্ষা দেন ।
হালালকে হালাল ,হারামকে হারাম বলা শিক্ষা দেন ।
মানুষ কেন রাজারবাগ শরীফে যায়?
সূরা ফাতিহা’তে আল্লাহ পাক দোয়া করতে বলেন, “আয় বারে ইলাহী! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন এবং ঐ সমস্ত মনোনীত বান্দাগণের পথ দান করুন, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন”।
ওলী-আল্লাহগণ হচ্ছেন সেই নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তাই সিরাতাল মুস্তাকীমের সন্ধান পেতে মানুষ রাজারবাগ শরীফে যায়।
হাক্বিকি , মুমীন ,মুত্তাকী ,আল্লাহ ওয়ালা - আল্লাহওয়ালী হওয়ার জন্য মানুষ সেখানে যায় ।

রাজারবাগ দরবারের গেট দেখে আশ্চর্য় হওয়া নিয়ে কিছু কথা

রাজারবাগ শরীফের বিষয়গুলো আমি খুব আগ্রহসহকারে লক্ষ্য করি। আজ সকালে যাচ্ছিলাম রাজারবাগ দরবারের সামনে দিয়ে। দেখি বড় গেইটের উপরে সবুজ রং এর লাইট দিয়ে লেখা আছে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ।
নিচে একটি বড় স্ক্রীনে থেমে থেমে আসছে নবীজির সন্তানদের নাম। খুব আশ্চর্য হলাম যে, আমরা মুসলমান হয়েও জানিনা প্রিয় নবীজির ছেলে সন্তান কতজন ছিলেন। প্রিয় নবীজির মেয়ে সন্তান কতজন ছিলেন।
রাজারবাগ দরবার শরীফের গেইটের দিকে দাড়িয়ে কিছুক্ষণ পড়লাম প্রিয় নবীজির ছেলে ও মেয়ে সন্তানদের নাম। সবার জানার জন্য আমি পোস্টটি শেয়ার করার অনুরোধ করছি সকল মুসলমানকে।
প্রিয় নবীজির ছেলে সন্তান ৪ জন। (১) হযরত ক্বসিম আলাইহিস সালাম (২) হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম (৩) হযরত ত্বহির আলাইহিস সালাম এবং (৪) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম।
আর নবীজির মেয়ে সন্তান ৪ জন। (১) হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম (২) হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম (৩) হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম এবং (৪) হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম।
ভালো করে বাজারবাগ শরীফের গেইটের লেখাগুলো পড়ে আমি লিখে রেখেছি। আপনারা ইচ্ছে করলে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারেন রাজারবাগের দরবারের গেইটের ডিসপ্লে থেকে।

রাজারবাগে এসে একজন মানুষের দ্রুত পরিবর্তন হওয়া


একদিন রাজারবাগ দরবার শরীফে বেলাল ভাই একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি বল্লেন, উনার নাম সিরাজুল ইসলাম,তিনি আমার প্রতিবেশি এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁকে আজ দরবার শরীফে দাওয়াত দিয়ে জুম্মার নামায পড়তে এসেছি। সেদিন থেকে সিরাজুল ভাইর সাথে আমার পরিচয়।
তার পরের সপ্তাহের ঘটনা। আমাকে একজন সালাম দিয়ে বলছেন ভাইজান কেমন আছেন? আমি সালামের উত্তর দিয়ে বল্লাম জি ভালো। আমি হঠাৎ করে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। তিনি বল্লেন,আমি সিরাজুল, গত সপ্তাহে পরিচয় হয়েছিলাম।
আমি এজন্যই অবাক হলাম যে, গত সপ্তাহেই যে ব্যক্তি শার্ট,প্যান্ট আর শু পরে এসেছিল, মাত্র এক সপ্তাহেই তার এত পরিবর্তন ! অর্থাৎ সিরাজুল ভাই কোর্তা,সেলোযার,পাগড়ী,রুমাল,সুন্নতি স্যান্ডেল পরা শুরু করেছেন। সেদিন থেকে আমি সিরাজুল ভাইকে দেখে আসছি তিনি আর শার্ট ,প্যান্ট পরেননি অর্থাৎ তিনি পুরোপুরিভাবে সুন্নতি পোশাক পরা শুরু করেন।
শুধু সিরাজুল ভাই নয়, উনার পরেও আমি অনেককে দেখেছি যারা দরবার শরীফে আমার দুই এক সপ্তাহের মধ্যে দুনিয়াবী সবকিছু ত্যাগ করে সুন্নতি আমল শুরু করেছে। এমনকি অনেকে আছে যারা প্রথম দিন থেকেই সুন্নতি আমল শুরু করেছেন। অর্থাৎ রাজার দরবার শরীফে গেলে সবাই সুন্নতের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

রাজারবাগে এসে সুন্নতি পোশাক পড়া

তার স্টাইলও সবার একইরকম। প্রথমে ভেবেছিলাম এটা ডিউটিম্যানদের ইউনিফর্ম। কিন্তু বাইরে থেকে যতো মানুষ আসতে দেখছি সবাই একই পোশাক! আরো অবাক হয়েছি সেখানকার পীর সাহেবকেও একই পোশাকে দেখে। পরে জানতে পারলাম আমাদের নবীজী ঠিক যে পোশাকটি পড়েছেন, হাদিসে সে পোশাকের বর্ণনা আছে। তাই এখানে হাদিসের বর্ণনা মোতাবেক হুবহু সেই পোশাকটিই পড়ার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং ঠিক সেই পোশাকটিই পড়া হচ্ছে।
যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে ইসলামী পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবী পড়তাম কিন্তু সেটা যেহেতু সুন্নতি স্টাইল নয়, তাই সেটা ছেড়ে দিয়ে এখন সুন্নতি স্টাইলের পাঞ্জাবী পড়ার চিন্তা করছি। সবাইতে বিভিন্ন ফ্যাশনের পাঞ্জাবী পড়ে, আমি না হয় সুন্নতি স্টাইলের পোশাকটিই ফ্যাশন হিসেবে পড়া শুরু করলাম।
সবাই দোয়া করবেন।